সভ্য সমাজে আমরা সবাই পোশাক পরিধান করি। কিন্তু সঠিক উপায়ে সবাই পোশাকের যত্ন নিতে পারে না। তোমরা কি নিজেদের পোশাকের যত্ন নাও? কীভাবে পোশাকের যত্ন নেওয়া উচিত বলে তুমি মনে কর?
পোশাক পরিধানে ময়লা হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ময়লা পোশাকটি সঠিক নিয়মে ধুয়ে, যথাযথ উপায়ে ভাঁজ করে, নির্দিষ্ট জায়গায় তুলে রাখাই হচ্ছে পোশাকের যত্ন। আবার সব সময় যে পোশাক পরিধান করলেই ময়লা হবে বা ধুতে হবে, এ ধারণা ঠিক নয়। এক্ষেত্রে ব্যবহারের পর অযথা ফেলে না রেখে যথাযথ উপায়ে ভাঁজ করে, নির্দিষ্ট জায়গায় তুলে রাখতে হবে। ব্যবহার করার ফলে যদি পোশাকটি ছিড়ে যায় বা পোশাকটিতে যদি দাগ লেগে যায়, তাহলে সেই ত্রুটি দূর করাও পোশাকের যত্নের অন্তর্ভুক্ত হবে।
পোশাক-পরিচ্ছদ কতটুকু সুন্দর দেখাবে এবং কতদিন টিকে থাকবে তা তোমার উপরই নির্ভর করবে। তুমি যদি তোমার পোশাক অযত্নে রাখো, তাহলে অনেক সময় দামি পোশাকও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যাবে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হবে। পোশাকের যত্নকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
১. পোশাকের দৈনিক যত্ন- প্রতিদিন পোশাকের যে যত্ন নিতে হয় তাই হচ্ছে পোশাকের দৈনিক যত্ন। তোমরা প্রতিদিন যে পোশাক পরিধান কর তা গোসলের সময় সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে এবং বাইরের ব্যবহৃত পোশাকগুলো ধোওয়ার প্রয়োজন না থাকলে রোদে শুকিয়ে যথাযথ স্থানে তুলে রাখতে পার। নতুবা প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে পাবে না।

| কাজ-১ তুমি কীভাবে পোশাকের দৈনিক যত্ন নিবে- ধারাবাহিকভাবে শ্রেণিতে উপস্থাপন করো। |
২. পোশাকের সাপ্তাহিক যত্ন- সপ্তাহের ছুটির দিনটিতে বোতাম লাগানোর প্রয়োজন থাকলে বোতাম লাগাবে, পোশাক ছেঁড়া থাকলে মেরামত করবে এবং নিজের পোশাক নিজে ধুয়ে ইস্ত্রি করে রাখবে। জুতা, ব্যাগ ইত্যাদি এই দিনেই পরিষ্কার করতে পার। পোশাকের সাপ্তাহিক যত্ন সংক্রান্ত কাজের সময় বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা রাখলে ভালো হয়। যেমন- গান শুনতে শুনতে এ কাজগুলো করলে কাজে ক্লান্তি আসবে না। পোশাকের সাপ্তাহিক যত্ন নিলে পরবর্তী সপ্তাহের পোশাকের জন্য তোমার কোনো চিন্তা থাকবে না।

৩. মৌসুমি যত্ন- আমাদের দেশ ষড় ঋতুর দেশ হলেও তিনটি ঋতুতে পোশাকের যে যত্ন নিতে হয় তাকেই মৌসুমি যত্ন বলে। তোমার পোশাকের মৌসুমি যত্ন তুমি নিজেই নিতে পারবে। এক্ষেত্রে গ্রীষ্মের শেষে পাতলা সুতির পোশাকগুলো ধুয়ে ইস্ত্রি করে নির্ধারিত জায়গায় তুলে রাখবে। বর্ষার শেষে কৃত্রিম তন্তুর পোশাকগুলো ধুয়ে যথাযথ জায়গায় ভাঁজ করে রাখলেই হয়, ইস্ত্রি করার প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে শীতের শেষে পশমি সোয়েটার, জ্যাকেট, মোজা, মাফলার, টুপি ইত্যাদি পোশাক ধুয়ে অথবা ধোওয়ার প্রয়োজন না থাকলে রোদে শুকিয়ে আলগা ময়লা অপসারণ করে ভাঁজ করে উঠিয়ে রাখতে হয়। এতে করে পরবর্তী বছর পুনরায় নতুন করে পোশাক কিনতে হয় না এবং প্রয়োজনের সময় সব কিছু হাতের কাছে পাওয়া যায়।

| কাজ- ২ তোমার এক বন্ধু প্রায়ই ক্লাসে নোংরা পোশাক পরিধান করে আসে। কোনো কোনো সমর তার পোশাকে বোতাম, জিপার ছেঁড়া অবস্থায় দেখা যায়। তুমি এক্ষেত্রে তাকে কী পরামর্শ দিবে? |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Read more